অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে ক্ষতি ও তা থেকে সমাধান
ইয়ামিন আহমদ আদিল
::
বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, বিনোদন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় অনেক কাজই আজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, অনেকটা ইতিবাচক ।
কিন্তু এই প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের জীবনে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে মোবাইল আসক্তি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। তাই এর ক্ষতিকর দিকগুলো জানা এবং সমাধান খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কি ক্ষতি হচ্ছে :
১. শারীরিক সমস্যা : দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের সমস্যা দেখা দেয়। চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, মাথা ব্যথা, ঘাড় ও হাতে ব্যথা হওয়া সাধারণ সমস্যা। এছাড়া অতিরিক্ত রেডিয়েশনের কারণে শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।
২. মানসিক সমস্যা: মোবাইলের প্রতি আসক্তি মানুষকে একাকী করে তোলে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বাড়তে পারে। অনেক সময় ঘুমের সমস্যা বা ইনসমনিয়া দেখা দেয়।
৩. সামাজিক সম্পর্কের অবনতি: মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। সামাজিক মেলামেশা কমে যায়, যা একাকীত্বের কারণ হতে পারে।
৪. শিক্ষা ও কর্মে বিঘ্ন: শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সময় মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়লে পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। অফিস বা কাজের জায়গায়ও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
৫. স্বাস্থ্যঝুঁকি: অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত মোবাইল গেম খেলা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় করার কারণে শরীরচর্চা কমে যায়, ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ হতে পারে।
সমাধান :
১. নিয়ম মেনে মোবাইল ব্যবহার: দিনে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মোবাইল ব্যবহার না করা। বিশেষ করে ঘুমের আগে বা খাওয়ার সময় মোবাইল এড়িয়ে চলা উচিত।
২. শরীরচর্চা ও বিনোদন: সময় পেলেই শরীরচর্চা করা, বই পড়া, খেলাধুলা করা বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো যেতে পারে। এতে মোবাইলের প্রতি নির্ভরতা কমবে।
৩. পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো: পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো ও গল্প করার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা সম্ভব।
৪. ডিজিটাল ডিটক্স: সপ্তাহে একদিন বা মাসে কয়েকদিন ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ পালন করা যেতে পারে, যেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে মোবাইল এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়।
৫. সচেতনতা বৃদ্ধি: মোবাইলের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যদের সচেতন করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, পরিবার, সমাজ এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মোবাইল ফোনের যথাযথ ব্যবহার আমাদের জীবনকে সহজ ও আরামদায়ক করে তুলেছে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতে পারে। তাই সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল ব্যবহার করা উচিত এবং অপ্রয়োজনীয় আসক্তি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমেই প্রযুক্তি আমাদের আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করবে, অভিশাপ নয়।
লেখক: ইয়ামিন আহমদ আদিল, শিক্ষার্থী ও কলাম লেখক,
সরকারি মদন মোহন কলেজ, সিলেট। বাংলাদেশ।