আব্দুর রহিম, জগন্নাথপুর টাইমস ডেস্ক :
ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে ট্রাস্ট ফান্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ২০২৪–২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সোমবার ৫ই জানুয়ারি ২০২৬ বিকাল ৪ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩টি বিভাগ ও ৬টি ইনস্টিটিউটের মোট ১০৯ জন মেধাবী ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকে ট্রাস্ট ফান্ডের পক্ষ থেকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক এবং ঢ্রাস্টি ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ট্রাস্টি ব্যারিস্টার মো. আবুল কালাম, সহ-সভাপতি মির্জা আসাব বেগ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাস্ট ফান্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পিএইচডি। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুন্সি শামস উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের সাধারণ সম্পাদক এবং ট্রাস্টি ব্যারিস্টার মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও নৈতিক বিকাশের ভিত্তি। প্রবাসে থেকেও আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়িত্ব ও ঋণ অনুভব করি। তাই মেধাবী ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, “এই ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ প্রবাসী অ্যালামনিদের শ্রম, ভালোবাসা ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমাদের প্রত্যাশা, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস জাতীয় জাগরণ, গবেষণা ও নেতৃত্ব গঠনের ইতিহাস। আমাদের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে অ্যালামনিদের আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরির জন্য মানসিক নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা অপরিহার্য। এই বৃত্তি সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ধারাকে শক্তিশালী করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, আজ যারা বৃত্তি পেল, তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।”
পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং একে একে তাঁদের হাতে বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দু’জন শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অ্যালামনি সদস্য অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আজিজ উদ্দিন, অ্যালামনি সদস্য ও ভিয়েলাটেক্স গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আহসান কবির খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. রফিক আহম্মেদ, সদস্যা আফসারুন সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও অতিথিবৃন্দ।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত বাজেটের কারণে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হয় না উল্লেখ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অবিহিত করেন।ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
তাঁর আগে ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের অন্যান্য যে সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন তাঁরাও বক্তব্য রাখেন।
২০২৪ সালে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে, ২০২৫ সালে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে এবং এই বছর ২০২৬ সালে ১০৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরো বেশী সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
