মোহাম্মদ কবিরুল ইসলাম,
জগন্নাথপুর টাইমস ডেস্ক :
সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়লেও বাহাড়া দুবাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল আমার হাতেখড়ি— সিলেটে নিজ স্কুলের সংবর্ধনায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্টানগুলোতে পড়াশুনা করার সৌভাগ্য হলেও বাহাড়া দুবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল আমার শিক্ষার হাতেখড়ি। এই প্রতিষ্টানে পাঁচ পাঁচটি বছর কাটিয়েছি। এই স্কুলে কাটানো সময় ছিল আমার জীরনের অন্যতম শ্রেষ্ট সময়। পাঁচ বছরে এই স্কুল আমার জীবনের ফাউন্ডেশন গড়ে দিয়েছে। জীবনে অনেক সম্মাননা পেয়েছি, পেয়েছি অনেক ক্রেষ্ট। নিজ হাতেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দিয়েছি অনেক সম্মাননা ও ক্রেষ্ট। কিন্তু খোদ নিজ স্কুল থেকে আজকের সম্মাননা ও ক্রেস্ট পাবার আনন্দ ও স্বাদ সত্যিই আলাদা। আমি অনেকটা আবেগাপ্লুত। বাহাড়া দুবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃক দেয়া সম্বর্ধনার জবাবে বিশিষ্ট লেখক, বৃটেনের প্রতিথযশা আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এডভোকেট, নিউহ্যাম বারার টানা তিনবারের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও “ফ্রিম্যান অব দ্য সিটি অব লন্ডন” খেতাবপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার নাজির আহমদ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন এবং এই স্কুল থেকেই সত্তর দশকে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। গতকাল মঙ্গলবার ৬ জানুয়ারি দুপুরে বাহাড়া দুবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছলে ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিবাদন জানানো হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক করুনা কান্ত দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টিত হয় সম্বর্ধনা সভা। এতে বিপুল সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী যোগ দেন।
প্রায় অর্ধ ঘন্টাব্যাপী বক্তৃতায় ছাত্র/ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমদ বলেন, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। একটু কমিটেড ও ডিটারমিন্ড হলে, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলে, সেক্রিফাইসিং ও লার্নিং মেন্টালিটি থাকলে তোমরা অবশ্যই ভাল করতে পারবে। নিয়মিত পড়াশুনা, শিক্ষকদের কথা শুনা, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় নিয়ে যেতে পারে তোমাদেরকে সফলতার শীর্ষে। ছাত্র/ছাত্রীদের উৎসাহ ও উদ্দিপনা দিতে বিভিন্ন উপমার মাধ্যমে তিনি বলেন, নিজের সাফল্যে অন্যরা ও স্বজনরা হিংসা ও ঘৃনা করে শুধু মাত্র নিজের পিতামাতা ও শিক্ষক ছাড়া। ছাত্ররা শিক্ষকদের ছাড়িয়ে গেলেও শিক্ষকরা তাতে গর্ববোধ করেন।
ব্যারিস্টার নাজির আহমদ আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগুতে হবে। পিতামাতা ও শিক্ষকদের কড়া নজর না থাকলে অল্প বয়সের শিক্ষার্থীরা মোবাইলে অতি আসক্তির মাধ্যমে বিপথগামী হতে পারে। অতিরিক্ত কোন কিছুই ভাল নয়। তাই লেখাপড়ায়, খেলাধুলা ও অন্যান্য কর্মকান্ডে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
পরে প্রধান শিক্ষক করুনা কান্ত দাশ পূরো স্কুল ব্যারিস্টার নাজির আহমদকে ঘুরে ঘুরে দেখান ও আপ্যায়ন করান। ব্যারিস্টার নাজির আহমদ তাৎক্ষনিকভাবে স্কুলের উন্নয়নে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান দেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
