জগন্নাথপুর টাইমসশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. খেলা
  3. গ্রেট ব্রিটেন
  4. ধর্ম
  5. প্রবাসীর কথা
  6. বাংলাদেশ
  7. বিনোদন
  8. বিশ্ব
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. ল এন্ড ইমিগ্রেশন
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সাহিত্য
  15. সিলেট বিভাগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আবু তাহের এমবিই খেতাবে ভূষিত

Jagannathpur Times Uk
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিউজ ডেস্ক :
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্যতম সম্মানজনক বেসামরিক উপাধি মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (এমবিই) খেতাবে ভূষিত হচ্ছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত মুখ, সাহিত্যিক ও পেশাজীবী হিসাবরক্ষক আবু তাহের। তার পেশাগত দক্ষতা, সমাজসেবা এবং সম্প্রদায়ের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেন। তার এই অর্জন দেশ-বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আবু তাহের তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, এমবিই খেতাব পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই স্বীকৃতি আমাকে সমাজের জন্য আরও বেশি কাজ করতে অনুপ্রাণি রবে। তিনি এই সম্মাননা তার পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করেন।

তার পরিবার ও নিকটজনেরা জানান, আবু তাহেরের এই সাফল্যে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটি নেতারাও তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যের রাজকীয় সম্মাননা তালিকায় এমবিই একটি মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি, যা সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, ব্যবসা বা জনকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য প্রদান করা হয়।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত মুখ, সাহিত্যিক ও পেশাজীবী হিসাবরক্ষক আবু তাহের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পেশাগত সাফল্য, সাহিত্যচর্চা এবং মানবসেবামূলক কাজ—এই তিন ক্ষেত্রেই তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান কমিউনিটিতে প্রশংসিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা আবু তাহের ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। ছাত্রজীবনেই কবিতা ও লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সৃজনশীল যাত্রা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে প্রবাস জীবনে আরও বিস্তৃত পরিসর লাভ করে।

১৯৮৭ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একজন পেশাদার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৯ সালে পূর্ব লন্ডনে তিনি Mahi & Co Certified Practising Accountants প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে আর্থিক পরামর্শ ও হিসাবরক্ষণ সেবা দিয়ে একটি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আবু তাহের Institute of Certified Practising Accountants-এর ফেলো সদস্য হিসেবে পেশাগত ক্ষেত্রে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পেশার পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৮ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত Shanghati Literary Society-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং বর্তমানে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সংগঠনটিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত একটি সাহিত্যিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছেন। সংগঠনটির উদ্যোগে নিয়মিত কবিতা উৎসব, সাহিত্যসভা, কর্মশালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও আবু তাহেরের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষণীয়। তিনি Masuma Memorial Trust-এর মাধ্যমে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছেন। নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন T5 Tailoring Training Centre, যেখানে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।

এছাড়া তিনি Vision Care Foundation-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, অপারেশন ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্পেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসবের অন্যতম আয়োজক হিসেবে লন্ডনে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সার্বজনীন গোলাপগঞ্জ উৎসবের অন্যতম আয়োজনে লন্ডনে বর্ণাঢ্য ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর মিলনমেলায় রূপ নেয়।

সাহিত্যিক পরিচয়ে আবু তাহের একজন বহুমুখী সৃষ্টিশীল ব্যক্তি। তিনি কবিতা, প্রবন্ধ ও নাটক রচনায় পারদর্শী এবং তাঁর লেখায় প্রবাস জীবন, মানবতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়গুলো গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। বিশেষ করে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়।

বর্তমানে তাঁর আরেকটি স্বপ্নের প্রকল্প “Heaven Care Home”—যেখানে বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তিনি মনে করেন, সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতার পরিচয়।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব এবং মানবিক উদ্যোগের জন্য আবু তাহের কমিউনিটিতে ব্যাপক সম্মান ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেশা, সাহিত্য ও সমাজসেবাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে তিনি যে পথ দেখিয়েছেন, তা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।