জগন্নাথপুর টাইমসমঙ্গলবার , ৮ অক্টোবর ২০২৪, ২রা কার্তিক, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. খেলা
  3. গ্রেট ব্রিটেন
  4. ধর্ম
  5. প্রবাসীর কথা
  6. বাংলাদেশ
  7. বিনোদন
  8. বিশ্ব
  9. মতামত
  10. রাজনীতি
  11. ল এন্ড ইমিগ্রেশন
  12. লিড নিউজ
  13. শিক্ষাঙ্গন
  14. সাহিত্য
  15. সিলেট বিভাগ
 
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়র লুৎফুর রহমানের দুই বছরে প্রতিশ্রুতি ও সাফল্যের তালিকা প্রকাশ

Jagannathpur Times Uk
অক্টোবর ৮, ২০২৪ ১০:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মির্জা আবুল কাসেম :

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান ও তাঁর টিম দায়িত্ব লাভের পর দুই বছরে নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কতটুকু সাফল্য অর্জন করেছেন তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন । একই সময় তুলে ধরেছেন নানা চ্যালেঞ্জের কথা । বলেছেন, “কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিস অর্থাৎ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সংকটের এই কঠিন সময়ে বিভিন্ন ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাসিন্দাদের পাশে থাকাটা হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্য।”

সম্প্রতি টাউন হলে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে নির্বাহী মেয়র ছাড়াও কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র ও ক্যাবিনেট মেম্বার ফর এডুকেশন কাউন্সিলর মাইযুম মিয়া, হাউজিং অ্যান্ড রিজেনারেশন বিষয়ক কেবিনেট মেম্বার কবির আহমদ, কমিউনিটি সেফটি কেবিনেট মেম্বার তালহা চৌধুরী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “২০২২ সালের মে মাসে আপনারা আমাকে তৃতীয় বারের মতো নির্বাহী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন। দেশের যেকোনো কাউন্সিল পর্যায়ে আমরাই সবচেয়ে অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী কিছু এজেন্ডা বা কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। দুই বছর পর আমি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পারি, ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলি অসাধারণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি, যা গোটা ইউকে’র মধ্যে ব্যতিক্রম।”

নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান জানান, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি প্রায় ১২০টির মতো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর মধ্যে গত দুই বছরে প্রায় ৩১ শতাংশ চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরো ৪২ পার্সেন্ট প্রতিশ্রতি পাইপলাইনে অর্থাৎ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। সব মিলিয়ে দুই বছরে ৭৩ শতাংশ অগ্রসরতা সহ প্রকাশিত রিপোর্টে প্রায় ৫৭ টি সাফল্য বা কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছে । এর মধ্যে ১২টি কর্মসূচিই শুধু ব্যতিক্রমীই নয়, এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে গোটা যুক্তরাজ্যের মধ্যে প্রথম।

ব্যতিক্রমধর্মী উদ্ভাবনী উদ্যোগ গুলোর মধ্যে এডুকেশন অর্থাৎ শিক্ষা খাতে যে তিনটি অনন্য, তা হলো, ইউকেতে প্রথম ও একমাত্র কাউন্সিল হিসেবে প্রাইমারি স্কুলের পাশাপাশি সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল সরবরাহ, ইউনিভার্সিটি বার্সারি এবং ‘এ’ লেভেল শিক্ষার্থীদের জন্য এডুকেশন মেইনটেনেন্স এলাউন্স (ইএমএ)। এছাড়া ১৬ উর্ধ বয়সী মহিলাদের জন্য এবং ৫৫ উর্ধ বয়সী পুরুষদের জন্য ফ্রি সুইমিং বা বিনামূল্যে সাঁতার, লেজার সার্ভিস কাউন্সিলের কর্তৃত্বে নিয়ে আসা, বারার মার্কেটগুলোর ব্যবসায় সহায়তার জন্য ১ ঘণ্টা ফ্রি পার্কিং সুবিধা ও ৪ টি প্যারেন্টস পার্কিং জোন পুনরায় চালু, ইয়ুথ সার্ভিসে ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ, ব্রিটিশ-বাঙালি মহিলাদের জন্য নিবেদিত উইমেন্স সেন্টার প্রতিষ্ঠা, প্রথম বছরে কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজ, দ্বিতীয় অর্থবছরে বার্ষিক ৪৯ হাজার পাউন্ডের কম আয়ের পরিবারের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট অব লিভিং রিলিফ ফান্ড চালু, ২২ হাজার প্রোপার্টি সহ হাউজিং ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস সরাসরি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ‘কার ফ্রি জোন’-এ ২/৩ বেড রুমের পরিবারের জন্য একটি কার পার্কিং সুবিধা চালু ইত্যাদি।
মেয়র জানান, গ্রেটার লন্ডনে পাঁচ জন নির্বাচিত মেয়র রয়েছেন। নির্বাচিত মেয়রের সুবিধা হল মেয়রের এজেন্ডা শুধুমাত্র তার টিম বা কেবিনেটের একক দায়িত্ব নয়, পুরো কাউন্সিলেরই চার বছরের কর্মসূচির অংশ।

নানা বাধাবিপত্তি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কথা উল্লেখ করে নির্বাহী মেয়র বলেন, “আমি যতদিন আপনাদের মেয়র আছি, মনে রাখবেন দিন-রাত আমার একটিই কাজ, একটি ভাবনা, তা হলো টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জীবন মানের উন্নতি। পরিচ্ছন্ন ও অগ্রসর বারা প্রতিষ্ঠায় আমি যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিশ্রতিবন্ধ।
মেয়র লুৎফুর রহমান ও তাঁর টিমের দুই বছরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যঃ (পুরো তালিকা ইংরেজিতে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে)
ট্যাকলিং কস্ট অব লিভিং ক্রাইসিসঃ *
১. বারার নিম্ন ও স্বল্প আয়ের পরিবার গুলোকে সহায়তা দিতে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের ‘কস্ট অব লিভিং” প্রজেক্টস’ এর আওতায় বিভিন্ন ধরনের গ্র্যান্টস্ (অনুদান সমূহ) প্রদান।
২. কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমের আওতায় ২০,৪০০ ওয়ার্কিং পরিবারকে ও ৭৪০০ পেনশনারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান। সহায়তার পরিমাণ এ পর্যন্ত মোট ৩২ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।
৩. প্রথম বছরে কাউন্সিল ট্যাক্স ফ্রিজ (এডাল্ট সোস্যাল কেয়ার – এর কন্ট্রিবিউশন ছাড়া) দ্বিতীয় বছর বার্ষিক ৪৯ হাজার পাউন্ড—এর কম আয়ের পরিবারের জন্য কাউন্সিল ট্যাক্স কস্ট অব লিভিং রিলিফ ফান্ড চালু।

এক্সিলারেট এডুকেশনঃ
৪. প্রাইমারি স্কুলের (বাজেট ২ মিলিয়ন পাউন্ড) পাশাপাশি সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল (বাজেট ৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড), যা গোটা দেশের মধ্যে প্রথম
৫. প্রথম বছর ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য ১৫০০ পাউন্ড ইউনিভার্সিটি বার্সারি দেয়া হয়, যা দ্বিতীয় বছরে বার্সারি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০—তে উন্নীত হয়েছে (বাজেট ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড)
৬. ‘এ’ লেভেলের শিক্ষার্থীদের এডুকেশন মেইনটেনেন্স এলাউন্স প্রদান, প্রথম বছর ৪০০ পাউন্ড এবং দ্বিতীয় বছরে এটি ৬০০ পাউন্ডে উন্নীত।

হোমস ফর ফিউচারঃ
৭. ২২ হাজার প্রোপার্টিসহ হাউজিং ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস সরাসরি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ৮. ৪০০০ হাজার এফরডেবুল ঘর (সাশ্রয়ী ভাড়ার জন) নির্মাণের টার্গেট, এবং ৩-৪ বেডরুম বিশিষ্ট ঘর নির্মানে অগ্রাধিকার

বুস্ট কালচার, বিজনেস : জব এন্ড লেজারঃ
৯. ১৬ বছর বা তদূর্ধ্ব নারী ও মেয়েদের জন্য এবং ৫৫ উর্ধ্ব পুরুষদের বিনামূল্যে সাঁতার কার্যক্রমের জন্য ২৪৮ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ
১০. লেজার সার্ভিস কাউন্সিলের কর্তৃত্বে নিয়ে আসা (বাজেট ৪০ মিলিয়ন)
১১. বারার মার্কেটগুলোর ব্যবসায় সহায়তার জন্য ১ ঘণ্টা ফ্রি পার্কিং সুবিধা ও ৪ টি প্যারেন্টস পার্কিং জোন পুনরায় চালু।

ইনভেস্ট ইন পাবলিক সার্ভিসঃ
১২. ইয়ুথ সার্ভিস নতুন করে গড়ে তুলতে ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ, ২০ টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে হবে ইয়ুথ সেন্টার বা ইয়ুথ প্রজেক্ট।
১৩. দুর্বল প্রবীণদের জন্য ফ্রি হোম কেয়ার সার্ভিস দিতে ২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ।
১৪. ব্রিটিশ—বাঙালি মহিলাদের জন্য নিবেদিত উইমেন্স সেন্টার, এর মাধ্যমে স্থানীয় মহিলাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পরামর্শ এবং সুবিধা প্রদান (বাজেট ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড)।

এম্পাওয়ার কমিউনিটি টু ফাইট ক্রাইমঃ ১৫. ৩৫০ টি সিসিটিভি স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগ (বাজেট ৪ মিলিয়ন পাউন্ড)
১৬. ৪১ জন নতুন এনফোর্সমেন্ট অফিসার (থিইও) নিয়োগের উদ্যোগ (বাজেট ২.৯ মিলিয়ন পাউন্ড) ১৭. ৪ টি এমনেস্টি বিনে ৭৬৭ টি নাইফসহ ৯১৭টি অস্ত্র জমা।
ক্লিন এন্ড গ্রীন ফিউচারঃ
১৮. কাউন্সিলের বর্জ্য অপসারণ সার্ভিসে ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ, অতিরিক্ত ৭২ জন ফ্রন্টলাইন কর্মী নিয়োগ।
এ কাউন্সিল দ্যাট লিসেন টু ইউঃ
১৯.বারার প্রাণকেন্দ্র হোয়াইটচ্যাপেলে নতুন টাউন হল—এর যাত্রা।
২০. সপ্তাহে দুই দিন মেয়রস্ সার্জারি পরিচালনা, যেখানে মাসে প্রায় ৩ শ’ থেকে ৫ শ’ বাসিন্দার সাথে মেয়রের সরাসরি সাক্ষাৎ ও সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি।